প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কুমিল্লার মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং মাদক কারবারিদের শক্ত হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
সম্প্রতি মৈশারচর গ্রামে সংঘটিত হামলার নিন্দা জানিয়ে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন:
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই; তারা যে দলেরই হোক না কেন, দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
জিরো টলারেন্স: সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও নিরীহ মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'।
ভীতি সঞ্চার: জনমনে ভীতি সঞ্চার করার যেকোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না এবং অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে।
চালিভাঙ্গা ইউনিয়নকে একটি নান্দনিক দ্বীপাঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন:
যোগাযোগ ব্যবস্থা: দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই এলাকা দীর্ঘকাল অবহেলিত ছিল। বর্তমানে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে রামপ্রসাদের চর ও বড়াইকান্দি গ্রামকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে নলচর ও মৈশারচরসহ আশপাশের এলাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
পর্যটন হাব: চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এলাকাটিকে একটি 'পর্যটন হাব' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
নদী সুরক্ষা: মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম এবং উপজেলা ও জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মেঘনা নদীর এই সংকট ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ও চর অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও কৃষি অর্থনীতি (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে মেঘনা নদীর অববাহিকা ছিল বাংলার অন্যতম প্রধান শস্য ভাণ্ডার। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে এই নদীপথগুলোই ছিল যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। ১৯০০ সালের সেই সময়ে চরের জমির দখল নিয়ে লাঠিয়াল বাহিনীর সংঘাতের যে ইতিহাস ছিল, ২০২৬ সালেও তার আধুনিক রূপ 'সন্ত্রাসী হামলা' হিসেবে টিকে আছে।
স্বাধীনতা ও চরাঞ্চল (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল শোষিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতার পর মেঘনা তীরের বিচ্ছিন্ন জনপদগুলো ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় যুক্ত হতে শুরু করে।
২০২৪-এর পরিবর্তন ও আধুনিক ভাবনা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে 'সুশাসন' ও 'পাবলিক সার্ভিস' নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের বক্তব্যে সেই 'জিরো টলারেন্স' নীতির প্রতিফলন দেখা যায়।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন দ্বীপগুলো পর্যটন হাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বালু উত্তোলন ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে এই অবস্থান ২০২৬ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সার্বভৌমত্বের একটি অংশ।
ইতিহাস সাক্ষী, নদীর সম্পদ লুণ্ঠন এবং চরাঞ্চলের মানুষের বঞ্চনা সবসময়ই সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। ১৯০০ সালের লাঠিয়াল বাহিনী থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড—সবক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের এই কড়া হুঁশিয়ারি এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে মেঘনা তীরের এই বিচ্ছিন্ন জনপদগুলো সত্যিকারের একটি পর্যটন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে দাঁড়িয়ে মেঘনার শান্তি ফেরানোর এই দাবি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: ১. ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের মৈশারচর পরিদর্শন ও প্রেস ব্রিফিংয়ের বক্তব্য (১২ মে, ২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |